Breaking News
Home / বিনোদন / একজোড়া হাতের গপ্পো

একজোড়া হাতের গপ্পো

ঢাকা : সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচয়, তারপর প্রেম। সেই প্রেমের টানে যুক্তরাষ্ট্রের মিনাসোটা থেকে সারা মেরিয়ান কুনের (২৮) বরিশালে ছুটে আসার গল্প সকলেরই জানা।

সারা বাংলাদেশে আসেন গত ১৯ নভেম্বর। এর দুই দিন পর বরিশাল নগরীর ২ নম্বর ওয়ার্ডের খ্রিষ্টানপাড়ার বাসিন্দা মাইকেল অপু মণ্ডলের সঙ্গে খ্রিষ্টান ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী আংটি বদলের মাধ্যমে বিয়ের প্রাথমিক অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।

মাইকেল রবীন মণ্ডলের একমাত্র ছেলে অপু মণ্ডল পেশায় রং মিস্ত্রি।

ঘটনার পর দেশজুড়ে তুমুল আলোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হইচই পড়ে যায় রং মিস্ত্রি অপুর প্রেম নিয়ে।

সামাজিক মাধ্যমে না বুঝে অথবা অধিক অস্থিরতায় বর্ণবাদী আচরণও করে ফেলেন কেউ কেউ।

দু’তিন দিন আলোচনা-সমালোচনার পর থেমে গেলেও মঙ্গলবার (২৮ নভেম্বর) ফেসবুকে একজোড়া হাতের ছবি ছড়িয়ে পরে। ছবিটির স্ট্যাটাসে লেখা ছিলো ‘লিজেন্ডরাই বলতে পারবেন কার হাত’।

অপু মণ্ডল-সারা কুন
ছবিটিতে অনেকেই কমেন্ট করেছেন-বরিশাইল্লা পোলা-আমেরিকান মাইয়া। কেউ কেউ শুধু ‘রং’ কমেন্ট করে নিরবে ‘অপুর পেশাকে (রং মিস্ত্রি) ছোট করেছেন।

তবে ছবির হাতদুটি আসলেই অপু-সারা দম্পত্তির কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এর আগে বিয়ের ছবি নিয়ে বয়ে যায় মন্তব্যের ঝড়। এসব মন্তব্যের বেশিরভাইগই বর্ণবাদী এবং অবমাননাকর।

এই আন্ত-মহাদেশীয় প্রেমের পাত্রপাত্রীদের গায়ের রঙ নিয়ে কালোজাম ও চমচমের উপমাও টানা হয়েছে। মো. ফারুক হাসান জয় নামে একজন মন্তব্য করেছেন, ‘আবারো প্রমাণ হলো কালো কালো কাউয়ার কপালে সাদা সাদা পরী আসে।’

নিয়ামুল হাসান লিখেছেন, আমরা জিআরই, আইএলিএস-এর পেছনে ছুটবো ক্যান! রং মিস্ত্রির থেকে দিকনির্দেশনা নিয়ে এগুতে হবে।

এই বিয়ের ভবিষ্যৎ নিয়েও নানা রকম শঙ্কা এবং সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে। মোস্তাফিজুর আর কামাল মন্তব্য করেছেন, বিয়ের পরে কি হয় সেটারও নিউজ কইরেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মাহবুবা নাসরীন বলছেন, এ ধরনের মন্তব্যের পেছনে নানা ধরনের মনোভাব কাজ করে।

প্রথমত, এগুলো যে বর্ণবাদী মন্তব্য এবং এতে করো অনুভূতিতে আঘাত লাগতে পারে সে সম্পর্কে অনেকেরই কোন ধারণা নেই।

পাশাপাশি, এর মধ্যে একধরনের পরশ্রীকাতরতাও কাজ করে, বলছেন তিনি, যেন এই প্রেম তার সাথেও হতে পারতো।

অধ্যাপক নাসরীন আরো বলেন, মানুষ যে ধরনের গণ্ডীর মধ্যে বসবাস করে, যে শ্রেণিকে প্রতিনিধিত্ব করে, এসব মন্তব্য থেকে সে সম্পর্কেও একটা ধারণা পাওয়া যায়।

অপু মণ্ডল-সারা কুন
তবে নেতিবাচক মন্তব্যের পাশাপাশি এই বিয়েকে অনেক ফেসবুক ইউজার ভালবাসার বিজয় বলে বর্ণনা করেছেন।

আসলাম নামে একজন ইউজার বলছেন, প্রকৃত ভালোবাসা এখনো আছে বলেই পৃথিবী এতো সুন্দর।

কাজী নাহিদ বলছেন, বাংলাদেশ আর আমেরিকার এই সেতুবন্ধন মাইলফলক হয়ে রইবে।

কামরুন নাহার মুন্নী বলছেন, ভালবাসা মোরে ভিখারি করেছে তোমারে করেছে রাণী। আশরাফুল আলম বলেছেন, আমাদের প্রেম আন্তর্জাতিক মানের।

এই ঘটনাটি নিয়ে নানা রকম রসালো মন্তব্যও করা হয়েছে ফেসবুকে।

হেনা ইসলাম জারা বরিশালের কথ্য ভাষায় লিখেছেন, ওরে এ দি মোগো বাড়ির সামনে, মুইতো খবরও পাইলাম না।

বিয়ের বাজারে বরিশালের বরদের চাহিদাকে তুলে ধরে রেজওয়ান চৌধুরী অনিক-এর মন্তব্য: বরিশাইল্লা পোলা কত টাকা তোলা?

উল্লেখ্য, অপু এবং সারার পরিচয় ফেসবুকের মাধ্যমে। এরপর দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সারা মেরিয়ান মিনাসোটার একটি বৃদ্ধাশ্রমের সেবিকা। গত ১৯ নভেম্বর তিনি বরিশালে আসেন। নগরীর একটি আবাসিক হোটেলে উঠে মুঠোফোনের মাধ্যমে খুঁজে নেন অপুকে।

অপু মণ্ডল-সারা কুন
সারা মেরিয়ান জানান, অপুর প্রেমের টানেই তিনি বাংলাদেশে এসেছেন। বিয়ের প্রাথমিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে। অপুর পরিবারের সবাইকে তার ভাল লেগেছে। বরিশালের প্রকৃতিও তাকে মুগ্ধ করেছে।

২৭ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে গেছেন সারা। পরবর্তীতে কোন এক সময় এসে বিয়ের চূড়ান্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষে অপুকে নিয়ে পাড়ি জমাবেন যুক্তরাষ্ট্রে।

Check Also

ঈদে ‘দ্যা অরজিনাল আর্টিস্ট’ নাবিলা

মাহমুদুল ইসলাম বিজ্ঞাপন নির্মাতা হিসেবেই বেশ পরিচিত। তবে বিজ্ঞাপন নির্মানের পাশাপাশি নাটক নির্মানেও তার সমান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!